Blog

আলোর স্রোতে শিশুতীর্থ

259 Views0 Comment

ওদের পরিচয় ‘ওরা অনাথ,ওরা দরিদ্র, ওরা অসহায়’। এই পরিচয় যেমন ওদের আছে তেমনই ওদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষেরও অভাব নেই এই পৃথিবীতে। ওদের পাশে রয়েছে বোলপুরের ‘শিশুতীর্থ’। একঝাঁক কচিকাচাকে শুধু প্রথাগত শিক্ষা দেওয়া নয়, তাদেরকে সাংস্কৃতিক দিক থেকেও বলিষ্ঠ করে তোলার ব্রত গ্রহণ করেছে এই প্রতিষ্ঠান’।
কবিগুরুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ শান্তিনিকেতনের কিছু মানুষ মিলে গড়ে তোলেন এই ‘শিশুতীর্থ’ হোম। পিছিয়ে পড়া, পরিচয়হীন কিংবা অনাথ শিশুরাই এখানে থাকার সুযোগ পায়। এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে রয়েছেন ঠাকুরবাড়ির উত্তরসূরী সুপ্রিয় ঠাকুর।

সুপ্রিয় ঠাকুর, ঠাকুরবাড়ীর উত্তরসূরী

১৯৮৯ সাল থেকে পরিকল্পনা শুরু হয় ‘শিশুতীর্থ’ গড়ে তোলার। দশটি বছর সময় লেগে গিয়েছে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে সকলের কাছে পরিচিত করতে এবং তার সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে। অবশেষে দুটি বাড়ি নিয়ে ১৯৯৯ সালের ১২ অগাস্ট ‘শিশুতীর্থ’র পথ চলা শুরু হয়। পরিকল্পনার দিন থেকেই ঠিক করা হয় দরিদ্র, অনাথ শিশুদের যথাযথ শিক্ষাদান করা হবে শিশুতীর্থে পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়- রবীন্দ্র শিক্ষাদর্শে শিক্ষাদান করা হবে ছাত্রছাত্রীদের। সেইভাবেই এগিয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠান।

কাছেরই এক স্কুলে ওরা লেখাপড়া করে। উচ্চমাধ্যমিক অবধি সেই স্কুলেই পড়ে ওরা। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কোনও কাজ না পাওয়া অবধি ‘শিশুতীর্থ’তেই থাকে। প্রতিষ্ঠানের তরফে চেষ্টা করা হয় যাতে ওরা স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েই রোজগারের পথ পেয়ে যায়, নিজেদের অন্ন সংস্থান নিজেরাই করে নিতে পারে। রোজগারের পথ পেয়ে গেলে ওরা আবাস ছেড়ে অন্য কোথাও থাকার সুযোগ পেলে চলে যায়। আর না পেলে থেকে যায় ‘শিশুতীর্থ’-তেই।

এই মুহূর্তে ১৬ জন ছাত্রছাত্রীর বসবাস ওখানে। লেখাপড়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক সবেরই তালিম দেওয়া হয় ওদের। রবীন্দ্র ভাবধারা বজায় রেখে মডার্ন এডুকেশন-এর পথে হাঁটাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল মন্ত্র। প্রতি বছর বসন্ত উৎসব, বৃক্ষরোপণ, বর্ষামঙ্গল উৎসবে মেতে ওঠে আবাসের ছাত্র-ছাত্রীরা। এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনের দিনটিও খুব জাকজমকের সঙ্গে পালন করা হয় এখানে। এ ছাড়াও সারা বছর নানা রকমের কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকে আবাসের ছেলেমেয়েরা।এ ভাবেই এগিয়ে চলেছে ‘শিশুতীর্থ’। এদের সঙ্গে দেখা করতেই জাস্ট নিউজ হাজির হয় ‘শিশুতীর্থ’তে। মেতে ওঠে ওদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায়। উপভোগ করে ওদের রোজনামচা। আর তারই কিছু ছবি রইল আপনাদের জন্য৷

– নবনীতা দত্তগুপ্ত