Blog

মৃৎশিল্পের আতুরঘরে নেই কোনও মিউজিয়াম

219 Views0 Comment

সেই কোন ছোটবেলায় পড়েছি- কৃষ্ণনগর মাটির পুতুলের জন্য বিখ্যাত৷ পরীক্ষাতেও আসত প্রশ্নটা- “কৃষ্ণনগর কীসের জন্য বিখ্যাত?”…
মনে পড়ে, একবার বাবার সঙ্গে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বাড়ির দুর্গাপুজো দেখতে গিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম পুতুল বিকিকিনির আনাচ কানাচ৷ সে অনেক আগের কথা। সেদিন খবর করার বা স্টোরি বানানোর তাগিদ ছিল না। নিছকই ঘুরে দেখার তাগিদটুকুই ছিল।

এবার জাস্ট নিউজ ঘুরে দেখল কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের আতুরঘর ঘূর্ণী। ঘূর্ণীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু মাটির পুতুল তৈরির কর্মশালা। সেই সব জায়গায় পাড়ি জমায় জাস্ট নিউজ। শুনে নেয় শিল্পীদের বক্তব্য।
কেউ নিজের পরিজনদের কাছ থেকে শিখেছেন পুতুল গড়ার কাজ। কেউ বা আগ্রহ আর ভালোবাসার টানে শিখেছেন কোনও দক্ষ শিল্পীর কাছ থেকে। ঘূর্ণীতে তাই মাটির পুতুল বানানোর কারিগরের অভাব নেই। সকলেই দক্ষ শিল্পী। তাঁদের দক্ষ হাতের নিখুঁত কারিকুরি সারা পৃথিবীতে সমাদৃত।

শুধুই মাটির পুতুল নয়। মূর্তি তৈরি হয় ব্রোঞ্জ, ফাইবার গ্লাস, পাথর, মেটাল দিয়ে। সাধারণত মাটির তৈরিগুলি পাঠানো হয় না দেশের বাইরে। পাঠানো হলেও তা সংখ্যায় বেশ কম। কারণ সেগুলি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাথর, ফাইবার গ্লাস কিংনা মেটালের তৈরি মূর্তিগুলি ভাঙার সম্ভাবনা থাকে না। তাই সেগুলিই পাঠানো হয় দেশের বাইরে।
শিল্পীদের মতে, কদর কমছে গুণমানে সমৃদ্ধ মূর্তির। বিভিন্ন মেলায় গিয়ে কম দামে সহজে ভেঙে যায় এমন মূর্তিই মানুষ পছন্দ করে কিনে নিয়ে যায়। তাতে আমাদের যত্নে বানানো টেকসই, চটকদারি এবং সেই সহজে ভঙ্গুর মূর্তিগুলির থেকে সামান্য দামে বেশি মূর্তিগুলি ফিরে আসে আমাদের ঘরেই।

প্রতিবন্ধকতা আছে আরও অনেক। কৃষ্ণনগর মাটির পুতুল আর মূর্তির জন্য বিখ্যাত হলেও সেখানে পরিকাঠামোর বড় অভাব। ট্রেনিং দেওয়ার মতো কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। অর্থাৎ নেই কোনও আর্ট কলেজ। কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল পৃথিবীবিখ্যাত হওয়া সত্তেও সেখানে নেই নেই একটিও মিউজিয়াম, যেখানে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকীর্তিগুলিকে সংরক্ষিত করা যায়।
সমস্যা রয়েছে আরও একদিকের। দাম বাড়ছে কাঁচামালের। রঙের দাম, কেমিক্যালের দাম আকাশছোঁয়া। তার উপরে রয়েছে জিএসটি’র খাঁড়া। শুধু মাটির উপরে বসানো নেই জিএসটি। সহজ কথায় কাঁচামালের অভাবে ধুকছে ব্যবসা।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের শহর এই কৃষ্ণনগর সিটি। সেই জায়গা সুসজ্জিত হওয়া দরকার- এমনটাই মনে করেন সেখানকার জনৈক ভাস্কর্য শিল্পী সুবীর পাল।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত