Blog

“করোনা’র থেকেও বেশি যন্ত্রণাদায়ক অপুষ্টি” : চন্দন সেন

211 Views0 Comment

পৃথিবীতে এক নামে বহু মানুষ থাকেন। কিন্তু চন্দন সেন নামটা শুনলেই এক লহমায় ভেসে ওঠে একটিই মুখ। বিশেষ করে যাঁরা সংস্কৃতিপ্রবণ মানুষ, তাঁরা চন্দন সেন বলতে দাপুটে অভিনেতা, স্পষ্টবাদী, আদর্শবাদী চন্দন সেনকেই বোঝেন।

এ রাজ্যে করোনা থাবা বসানোর আগেই এহেন মানুষটির কাছে হাজির হয় জাস্ট নিউজ৷ উদ্দেশ্য, গুণী-মানী শিল্পীর সঙ্গে একটু আড্ডা। আজকের জ্বলন্ত সমস্যা ‘করোনা’ প্রসঙ্গে তিনি যা বললেন তা মরমে বিঁধল এসে৷ তিনি বলেন- “আমাদের দেশে ডায়রিয়া ও অপুষ্টিতে ঘণ্টায় ৫ টি বাচ্চা মারা যায়। করোনাকে নিয়ে এত মাথা না ঘামিয়ে ওই অপুষ্টির কারণে আক্রান্তদের নিয়ে একটু মাথা ঘামান। তাতে ওরাও খুশি হবে। আমিও খুশি হব।”…
এহেন একজন স্পষ্টবক্তা সর্বোপরি অপ্রিয় সত্য বক্তা অভিনেতার কাছে অভিনয় হল আনন্দের জায়গা। যে কোনও অভিনেতার কাছেই অবশ্য তাই। এই সত্যটিকে তিনি বিশ্লেষণ করেন অন্যভাবে৷ তাঁর কথায়, অভিনেতার কাছে অভিনয় আনন্দের রসদ তো বটেই। কিন্তু চরিত্রায়ণ ঠিক না হলে কোনও অভিনেতাই আনন্দ পান না। এখন সুযোগ অনেক বেড়েছে। আমরা যখন একটা চরিত্র পাওয়ার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছি তখন এত সুযোগ ছিল না। সুযোগ বেড়েছে যেমন, তেমনই বেড়েছে প্রতিযোগিতা।
তিনি যে সময়ে অভিনয়ে আসেন তখন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিজের ছবি ও বায়োডাটা দিয়ে আসতে হত। পাত্তাও দিত না কেউ তখন সেই অভিনেতা হতে আসা মানুষটিকে। তাঁর সামনেই হয়ত পড়ে থাকত তাঁর আগে পাঠানো ছবি, পরিচয়লিপি। বেশি প্রশ্ন করলে ঘাড় ধাক্কাও দেওয়া হত তখন। আজ আর এতকিছু হয় না।
অভিনেতার মতে, অভিনয় করার জন্য কোনও কোচের দরকার হয় না। একটু লেখাপড়া, ভঙ্গিমা, আর বোধ থাকলেই অভিনয় সম্ভব।

পারিবারিক সূত্রে অভিনয়ের সঙ্গে চন্দন সেনের পরিচয় অনেক ছোটবেলাতেই। মা অফিস থেকে ফেরার পথে অফিস ক্লাবে অভিনয় করে বাড়ি ফিরতেন। একার হাতে মানুষ করেছেন তিনি ছেলেকে।
ছেলে বড় হয়ে চাকরি বাকরির চেষ্টা করল। পেলও। কিন্তু ঠিক খাপ খাচ্ছিল না তাঁর সঙ্গে। কাজে ভুল করতেন। বকা খেতেন। মা বুঝলেন, এ ছেলের দ্বারা চাকরি হবে না। তাই ছেলেকে একদিন নিজেই বললেন যেটা ভাল লাগে সেটা করো। আর ব্যস! মায়ের অনুমতি পেয়ে নেশার টানে চলে এলেন অভিনয়ে। দীর্ঘকাল ধরে ‘নাট্য আনন’-এর সঙ্গে যুক্ত তিনি।

জানেন কি? অভিনেতা চন্দন সেন খুব ভাল ক্রিকেট খেলতেন একসময়।
খেলেছেন জুনিয়র বেঙ্গল। তাঁর খেলা শুরুর সময়ে ম্যাচ হত তিনদিনের। তাঁর খেলা ছাড়ার সময়ে তা নেমে আসে পঞ্চাশ ওভারে। এই প্রসঙ্গে এক মজার এবং কটাক্ষস্বরূপ মত প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন- “২০ ওভারের খেলাকে আমি ক্রিকেট বলি না। ওটা ডাঙ্গুলি খেলা। ওই ডাঙ্গুলি আমি খেলিনি। মানে খেলতে হয়নি।”
এহেন মানুষটির দুরারোগ্য অসুখের কথা প্রায় সবাই জানেন। সেই সময় বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাঁর পাশে কী ভাবে ছিল তাও আমরা জানি। অভিনেতা বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিগত জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করে তাঁর চিকিৎসা করায়। বেশ অনেকগুলো কেমো দেওয়া হয় ওই টাকাতেই। এক একটি কেমোর দাম ৭৫,০০০ টাকা। আর সেটা বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি না থাকলে সম্ভব হত না বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত