Blog

শঙখধ্বনি, করতালিতে সুসম্পন্ন শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

159 Views0 Comment

ব্যাধির নাম ‘নোভেল করোনা ভাইরাস’। এর দাপটে কাত মানবজাতি। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। চিন, ইতালির মৃত্যুমিছিলে সন্ত্রস্ত আমরা সবাই। COVID-19 থাবা বসিয়েছে বাংলাতেও। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে স্তব্ধ হয়েছে জনজীবন। স্কুল, কলেজ, দোকানপাট, শপিং মল, সিনেমা হল বন্ধ সবকিছু। জরুরি পরিষেবা ছাড়া কিছুই মিলছে না।

২২ মার্চ বিকেল ৫ টা অবধি ঘর থেকে বেরনো বারণ ছিল সকলের। দেশ জুড়ে কার্ফিউ জারি করেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি তিনি সকলের কাছে আবেদন জানান, এই কঠিন পরিস্থিতিতে যাঁরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবায়, মানুষের সুরক্ষায় নিজেদের উজার করে দিচ্ছেন সেই স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার। আর তার পথ বাতলে দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। করতালি, শঙখধ্বনি, কাসর-ঘণ্টা বাজিয়ে সেই মানুষগুলির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে বলেন তিনি। দেশবাসী সেদিন শুনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মশাইয়ের কথা। তাঁর নির্দেশমতো বেজে উঠেছিল শঙখ, বেজে উঠেছিল কাসর, করতালিতে গমগম করছিল চারদিক। এদিন মানুষ ভুলে গিয়েছিলেন রং, ভুলেছিলেন জাতি-ধর্ম। এদিন এক হয়ে গিয়েছিলাম আমরা সবাই। কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে ইস্টবেঙ্গল কে মোহনবাগান, কে তৃণমূল কে বিজেপি- ভুলে গিয়েছিলাম আমরা সকলে। সেদিন একটা পরিচয়ই সম্বল ছিল আমাদের- আমরা মানুষ।…

আবালবৃদ্ধবনিতা কেউ সেদিন নিজেকে গুটিয়ে রাখেননি। কেউ সব জেনে কেউ বা না জেনে শামিল হয়েছিলেন এই মহাযজ্ঞে। তবে হ্যাঁ, সকলে এর সঠিক কারণ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। অনেকেই ভেবেছিলেন কাসর, ঘণ্টা, করতালিতে বিদায় নেবে করোনা ভাইরাস। এমন ভাবাতেও খুব অন্যায় নেই। মানুষ আজ সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের চাবিকাঠি খুঁজছেন। তাই এই কর্মযজ্ঞকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন লাভের চাবিকাঠি ভেবেছিলেন কিছু সংখ্যক মানুষ। আসলে আমাদের মধ্যে অনেকেই চোখ রাখি না, কান পাতি না সংবাদ মাধ্যমে। তা সে যে কারণ মাথায় নিয়েই হোক না কেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলাম আমরা প্রত্যেকে।
কঠিন পরিস্থিতি কবে আমাদের পিছু ছাড়বে কেউ জানি না। লকডাউন পরিস্থিতি ২৭ মার্চ ছাড়িয়ে পাড়ি দিয়েছে আগামী ২১ দিনের দরজায়। আরও ২২ দিন চলবে এই লকডাউন। সকলকে থাকতে হবে গৃহবন্দি, মেনে চলতে হবে সরকারি বিধি, স্বাস্থ্য বিধি। তা হলেই করোনার সঙ্গে লড়াই করে জয়লাভের পথ সুগম হবে আমাদের।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত