Blog

ধিকি ধিকি জ্বলে প্রাণ

235 Views0 Comment

বাউল হওয়া নয় মুখের কথা৷ লম্বা চুল আর রং বেরঙের কাপড়ের তাপ্পি মারা পোশাক গায়ে চড়িয়ে একতারা বাজিয়ে দু লাইন গাইলেই বাউল হয়ে ওঠা যায় না। বাউল হতে হিম্মত লাগে। অনেক সাধনা করার পর বাউলের আখ্যা জোটে। আর সেই বাউলের ‘বাউল’ হয়ে ওঠার পিছনে যার সবথেকে বড় ভূমিকা থাকে সে হল বাউলানি বা ফকিরানি। বাউলের সব সাধনার সে সাধনাসঙ্গিনী।

বাউল সাধনার মাধ্যমে নিজের দেহকে নিজের আয়ত্বে আনতে চায়। সাধনায় সিদ্ধিলাভ করলে তার দেহ নৈরত্মের দ্বারা চালিত হয় এবং শুক্র বর্জন না করেই তার মহাসুখ প্রাপ্তি হয়৷ বাউলের মতে, শুক্রবর্জনে দেহের অনেক ক্ষতি হয়৷ তাড়াতাড়ি বার্ধক্য আসে। তাই শুক্র বর্জন নিষ্প্রয়োজন। বাউলগণ নিজেদের সন্তান পৃথিবীতে আনার থেকেও অধিক পছন্দ করে অন্যের সন্তানকে লালন পালন করতে।

বাউলের সাধনা এগিয়ে নিয়ে যেতে বাউলানি বা ফকিরানির ভূমিকা অনবদ্য৷ কিন্তু তার ভূমিকা কি শুধুই বাউলকে সাধনায় সাহায্য করা নাকি সমাজে তারও কিছু ভূমিকা আছে? নিশ্চয়ই আছে। তারাও গান গায়, মন ভরায়। তাদেরও চেনে মানুষজন। তাদের গানও শুনতে ভালোবাসে মানুষ। বাউলানি মাকি কাজুমি, উমারানি দাস, সন্ধ্যারানী দাস, দুর্গা ক্ষেপি, চাঁদ বিনি, সুফিয়া বিবির পাশে জ্বলজ্বল করে আরও একটি নাম- রিনা দাস বাউল। বাউল গান যাঁরা ভালোবাসেন, নিয়মিত শোনেন এবং চর্চা করেন তাঁরা চেনেন এই রিনা দাস বাউলকে। এহেন রিনা দাসকে নিয়ে জাস্ট স্টুডিও হাজির ওয়েবের দরবারে। বাউলানির কণ্ঠে ‘ধিকি ধিকি জ্বলে প্রাণ’ গানটি জীবনের কথা বলে। বাউলানির হাতে রয়েছে একতারা এবং একটি তবলা। সেতার সঙ্গতে রয়েছেন দিবাকর দাস। সুর-তাল-ছন্দের মেলবন্ধনে ‘ধিকি ধিকি জ্বলে প্রাণ’ হয়ে উঠেছে অনবদ্য।

প্রসঙ্গত, প্রজাতন্ত্র দিবসে জাস্ট স্টুডিওর পর্দায় রিনা দাস বাউল এবং রাজু দাস বাউল গেয়েছেন জাতীয় সঙ্গীত। এই প্রথম কোনও বাউলের কণ্ঠে জনসমক্ষে হাজির জাতীয় সঙ্গীত এবং তা বাউল ঢঙে। এর আগে এমন মেলবন্ধনের স্বাদ পাননি মানুষ। এহেন কনসেপ্ট নিয়ে হাজির জাস্ট স্টুডিও। কে বলতে পারে এটাই একদিন কোনও ট্রেন্ড হয়ে উঠবে না?

– নবনীতা দত্তগুপ্ত