Blog

অদৃশ্যের খোঁজে

220 Views0 Comment

আচ্ছা, আপনি ভূতে ভয় পান? নাকি বিশ্বাসই নেই তেনাদের অস্তিত্বের উপর? কেউ ভূতের গল্প শোনালে কি বলে ওঠেন “ধুর, ভূত বলে কিস্যু নেই”?… নাকি চলচ্চিত্র দেখে বা বইয়ের পাতায় শুধু গল্প পড়ে ভয় পেতেই ভালোবাসেন?

এই বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচলের মাঝেই আছে এমন কিছু বিষয় যার খোঁজে রয়েছে ‘Just Studio’র ‘JUST SPIRITS’ বিভাগের ‘Seekers Of Souls’ টিম। ইতিমধ্যেই হাজির এপিসোড-১। ‘Seekers Of Souls’-এর টিম সদস্যরা পৌঁছে গিয়েছিল জনৈক শিবপ্রসাদ চন্দ্র’র বাড়িতে। টিমের সদস্য সংখ্যা ৫। রয়েছেন সৌম্য বারিক, সৌরভ মণ্ডল, রণ মুখার্জি, সৌম্য দাশগুপ্ত এবং টিম লিডার সুমন মিত্র।

শিবপ্রসাদ বাবুর বাড়িতে বেশ কয়েক মাস ধরেই ঘটে চলেছে এমন সব কাণ্ড যা খুব স্বাভাবিক নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ির সদস্যদের মনে হচ্ছে ব্যালকনিতে কেউ দাঁড়িয়ে আছে, আবার কখনও এমনি এমনিই খাটটা দুলে উঠছে, কখনও আবার পুজো করতে বসে মনে হচ্ছে কেউ রয়েছে পিছনে অথবা কেউ যেন ফাঁকা ডাইনিং রুম দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। কখনও বা নানাধরনের শব্দ আসছে কানে। কিন্তু নজরে পড়ছে না কেউ। অথচ কেউ তো আছেই– এটা উপলব্ধি করা যাচ্ছে ভাল মতো।…

এরকম ঘটনার সাক্ষী আমরা হয়ত অনেকেই। কিন্তু কারোকে বলে উঠতে পারি না কিংবা বললেও কথাটা উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করি অধিকাংশের মধ্যেই। কেউ বলে- মনের ভুল, কেউ বা বলে শরীরটা তোমার দুর্বল তাই মনটাও দুর্বল হয়ে আছে। কেউ বা হেসেই লুটোপুটি খায়। কেউ বলে প্রলাপ বকছি।…

না, এরকম কোনও কথাই বলে না ‘Seekers Of Souls’ টিম। বরং খতিয়ে দেখতে চায় সত্যিই সেখানে কিছু আছে কিনা। সহজ কথায় অশরীরির অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ায় এই টিম। কোথাও কোনও প্রেত, আত্মা বা স্পিরিটের অস্তিত্ব থাকলে তা ধরা পড়ে ‘Seekers Of Souls’ টিম-এর গ্যাজেটস-এ। সত্যি কথা বলতে কি, ‘Paranormal’ কথাটি মোটেও গালভরা একটি শব্দ নয়। এর যথার্থতা রয়েছে। অস্বাভাবিক এমন কিছু ঘটে যা আমরা চোখে দেখতে পাই না, কেবল অনুভব করতে পারি। সেই অনুভবের সত্যতা কতখানি সেটাই খতিয়ে দেখে ‘Seekers Of Souls’ -টিম। এই কাজের জন্য তাঁরা যেসব গ্যাজেটস ব্যবহার করেন সেগুলি নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জানান দেয় সত্যিই অস্বাভাবিক কোনও কিছুর অস্তিত্ব আছে কিনা সেই জায়গায়। শিবপ্রসাদ চন্দ্র’র বাড়িতে এরকমই কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পায় ‘Seekers Of Souls’ টিম।

আর তার প্রমাণ আপনাদের সামনে হাজিরও করা হল এই ভিডিওটিতে। সরাসরি দেখানো হল ঠিক কী ভাবে যাচাই করে দেখা হল শিবপ্রসাদ চন্দ্রের বাড়ির সমস্যাগুলো।
‘Seekers Of Souls’- এর কাছে যেসব গ্যাজেটস আছে তাদের ব্যবহার সম্পূর্ণ অন্যরকম। প্রথমত, K2 MITTER বা EMF DETECTOR (ELECTRO MAGNETIC FIELD DETECTOR)। আত্মা নিজের অস্তিত্ব জানান দেবার জন্য একটি আকার ধারণ করবার চেষ্টা করে এবং সেই আকার ধারণের জন্য তাকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে ENERGY সংগ্রহ করতে হয়। তাই কোথাও কোনও এনার্জি থাকলে এই যন্ত্রটি সেটার নির্দেশ দেয়। দেখা গেল সেই এনার্জি সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে একটি গাছের থেকে যা কখনও সম্ভব নয়।কখনও বা ‘INFRARED THERMOMETER’ যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়। এই যন্ত্রে তাপমাত্রার বর্তমান অবস্থা বোঝা যায়। টিম ‘Seekers Of Souls’- এর মতে, আত্মার উপস্থিতির প্রাকমুহূর্তে ওই স্থানে তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি হয় যাকে আমরা ‘কোল্ড স্পট’ এবং ‘হট স্পট’ বলে থাকি। আর সত্যিই তাপমাত্রার তারতম্য ধরা পড়ল। তাদের এই গবেষণার মাঝখানেই বাড়তে কমতে থাকে ঘরের লাইট।

এ ছাড়া তাঁরা ব্যবহার করছিলেন ‘DOWSING ROD’ যা বাস্তুশাস্ত্রবিদরাও ব্যবহার করে থাকেন। এই যন্ত্র কোনও স্থানের পজিটিভ আর নেগেটিভ দিকনির্দেশে সাহায্য করে। আর তার সঙ্গে ব্যবহার করেন ‘EVP RECORDER’ (ELECTROBIC VOICE PHENOMENA), যা অতি সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর শব্দ রেকর্ড করতে পারে। এ ভাবে
সত্যতা যাচাই করে তা সকলের সামনে তুলে ধরতে টিমের কাছে রয়েছে এহেন আরও অনেক গ্যাজেট। প্রয়োজনে সেগুলি ব্যবহার করেন সুমন মিত্র এবং তাঁর দল।
সুতরাং কারোর কথা বা ভয়কে ভ্রান্ত ধারণা বলে উড়িয়ে দেওয়া কিংবা হ্যালুসিনেশন বলে পাশ কাটানো, এমনকী কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দেওয়াও নয়, বরং বক্তার কথাকে গুরুত্ব দিয়েই ‘Seekers of Souls’ সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রেতের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করে ‘Just Studio’ র ‘JUST SPIRITS’ সেগমেন্ট। এবং প্রয়োজনে তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয় ‘Just Spirits’ -এর ‘HEALING’ বিভাগ। তাই চোখ রাখতে ভুলবেন না ‘Just Studio’ র ‘JUST SPIRITS’ -এ।