Blog

রাস্তার অভুক্ত সারমেয়দের পাশে ‘ফার ফোকস’

227 Views0 Comment

লকডাউন। বন্ধ হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্ট্রিট ফুড সেন্টার। এই সব ফুড জংশনগুলির অতিরিক্ত খাবারেই এতদিন উদরপূর্তি হত ওদের। ওদের বলতে রাস্তার সারমেয়দের। এখন এই লকডাউনের বাজারে তা হলে ওদের অবস্থা কী ভাবুন তো? খালি পেটেই শুতে যায় ওরা। করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে পথচারীদের দিকে। কেউ যদি এক টুকরো রুটিও দেয় তো খায়। নিদেনপক্ষে একটা বিস্কুট? কেউ যে দেয় না তা নয়। এহেন পশুপ্রেমী মানুষ আছে অনেক। আবার পশুদের থেকে দশ হাত দূরে থাকার মানুষেরও অভাব নেই। অনেকে ওদের উপর অত্যাচারও চালায়। বিষ খাওয়ায়, গাড়ি চাপা দেয়, মারে- আরও কত কী করে নিজেদের পাশবিকতা প্রদর্শনের তাগিদে। আর এই সময়ে দাঁড়িয়ে ওদের জীবনের নতুন সমস্যা খাদ্যাভাব।…

ওদের পেটের কথা ভেবেছে স্ট্রিট ডগ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ‘ফার ফোকস’। তাই দুবেলা ওদের জন্য খাবারের আয়োজন করছে ‘ফার ফোকস’।
ভাত, ডাল, চিকেন, রুটি, বিস্কুট খাওয়ানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে৷ যে যেখানে থাকে সে সেখানকার সারমেয়দের দায়িত্ব নিয়েছে। আর এই কাজে কেউ কারোকে বাধা দিতে পারবে না৷ কেননা তা হলেই শাস্তি অনিবার্য।
প্রসঙ্গত, ‘ফার ফোকস’ বারুইপুরের বিডিও’র কাছ থেকে এই ব্যাপারে একটি অনুমতিপত্রও জোগাড় করে রেখেছে যাতে নিজেদের কাজে বাধা না পেতে হয় কোনও তরফে। ফার ফোক এর তরফে জানানো হয়, আজ অবধি কোনও বাধা পেতে হয়নি। প্রশাসন পাশে আছে তাদের এই উদ্যোগে। শুধু বলা আছে যাতে মাস্ক পরা থেকে শুরু করে যাবতীয় বিধি নিষেধগুলো মেনে কাজ করা হয়।

নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী তো বটেই বহু সহৃদয় ব্যক্তিও নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসেছেন ‘ফার ফোকস’-এর পাশে।
প্রথমে ফেসবুকে আহ্বান জানানো হয়, যাঁরা ওদের জন্য ভাবতে রাজি তাঁরা এগিয়ে আসুন। হাতেনাতে ফল। বহু মানুষ এরপর এগিয়ে আসতে থাকেন।

‘ফার ফোকস’-এর একটাই অনুরোধ, প্রত্যেকটা বাড়ি যদি একটা কুকুরেরও দায়িত্ব নেয় তা হলেই আর কারোকে আলাদা করে ওদের জন্য কিছু করতে লাগে না। নিজেদের অতিরিক্ত খাবার ডাস্টবিনে না ফেলে ওদের দিতে আহ্বান জানিয়েছে ‘ফার ফোকস’।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত