Blog

কমিটমেন্টে ভীতি আছে ইশার

259 Views0 Comment

বাংলা ধারাবাহিক ‘ঝাঁঝ লবঙ্গ ফুল’ দিয়ে কেরিয়ার শুরু৷ পড়াশুনা করেছেন ওকালতি নিয়ে। প্র‍্যাকটিসও করতেন। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না- “ভাগ্য কাকে কোন দিকে ঠেলে দেবে তা ভাগ্যদেবতাই জানেন।”…
একইভাবে ইশা সাহাও কোনওদিন ভাবেননি অভিনেত্রী হবেন। দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শট দেবেন কখনও। যে সময়ে রেজিস্ট্রেশন পেয়ে নিয়মিত হাইকোর্ট যাওয়া শুরু করেছেন সেই সময়ই ভাগ্যের চাকা গেল ঘুরে। এক বেসরকারি চ্যানেলের জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হয় ইশার। আর তারপরেই সেই চ্যানেলে ‘ঝাঁঝ লবঙ্গ ফুল’-এ লবঙ্গ চরিত্রটি করার সুযোগ এসে যায় তাঁর কাছে। পিছিয়ে যাননি। নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে আজ তিনি টলিউডের ব্যস্ত এবং পরিচিত অভিনেত্রী। এক ডাকে মানুষ চেনেন তাঁকে। মেগা সিরিয়ালে কাজ করার পরই ‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এ তাঁর আত্মপ্রকাশ। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ফোন পান ইশা৷ কারণটা ছিল ‘প্রজাপতি বিস্কুট’। সেখানেও সাদামাটা-ছাপোষা লুকে শ্রাবনী চরিত্রে দিব্যি মানিয়েছিল ইশাকে।

এরপর একে একে দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন, সোয়েটার, গুপ্তধনের সন্ধানে, সহবাসে-তে অভিনয় করেছেন তিনি। ঝুলিতে রয়েছে ওয়েব সিরিজিও। তালিকায় রয়েছে ডাব চিংড়ি, ভালোবাসার শহর, মাফিয়া।
এহেন ইশার ফিল্মি ফিল্মি এবং টেলি কেরিয়ার নিয়ে আমরা সকলেই কিছু না কিছু জানি। কিন্তু জানেন কি ইশা কতবার প্রেমে পড়েছেন? ইশাকে যদি কখনও আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করতে হয় তা হলে কী করবেন তিনি? আর স্টারডম তৈরি হওয়ার পর কতটা পাল্টে গেছে ইশার জীবন? ইশা বিয়েতে কতখানি বিশ্বাসী? তিনি কি কমিটমেন্টে বিশ্বাসী আদৌ? নাকি লিভ-ইন সম্পর্কই তাঁর কাছে শ্রেয় বলে মনে হয়? এই সব প্রশ্নের উত্তর অভিনেত্রী দিলেন জাস্ট নিউজকে।
যেমন ধরুন, ইশা বললেন- “পরিচিতি পাওয়ার আগে দিনে হয়ত তিনটে মেসেজ আসত। এখন সেই জায়গায় তিরিশটি মেসেজ আসে।”

আর প্রেম? ইশা ভয় পেতেন বাবাকে। কারো সঙ্গে ঘুরলে কেউ যদি বাবাকে বলে দেয়! প্রাইভেট টিউশন পড়তে যাওয়ার সময় তাঁর রিকশার পিছু পিছু কেউ একজন বাইক নিয়ে যেত। ইশা ভয় পেতেন। বুঝতেন যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য তার নেই। তবু কেউ যদি বাবাকে বলে দেয় এই কথা তা হলে আর রক্ষে নেই। তাই রিকশার এক পাশে সিঁটিয়ে বসে থাকতেন ইশা।
ইশা বিয়েতে বিশ্বাসী। কিন্তু আবার কমিটমেন্টে ভয় পান। দায়িত্ব নিতেও ভয় পান। কারণ সবটা যদি ঠিকমতো সামলাতে না পারেন।
কখনও যদি ইশাকে কোনও আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করতে হয় তাহলে তিনি চরিত্রটিকে অতিরঞ্জিত করবেন না। তাঁর মতে, সিনেমা-সিরিয়ালে যে ধরনের কোর্ট রুম দেখানো হয়, আদতে কোর্ট রুম সেরকমই নয়। একেবারে আলাদা। কিন্তু নিজে আইনজীবী বলে কোনও পাণ্ডিত্য তিনি অভিনয়ের সময়ে দেখাবেন না- এ কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

ইশার বাবা-মা প্রথমে মেনে নিতে পারেননি মেয়ের অভিনয়। কিন্তু পরে ‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এ মেয়ের সাফল্য দেখে আর নাকি আপত্তি করেননি তাঁরা। তাই সেদিকেই আজ তাঁর জীবনের গতিপথ চলমান।
বড় পর্দায় ব্যস্ত হওয়ার পর আর ছোটপর্দায় ইচ্ছে নেই ইশার। কারণ ছোটপর্দায় কাজ করাটা বড় কঠিন বলে মনে হয় তাঁর৷ সেটা অবশ্য সময়ের কারণেই। জীবনের প্রথম কাজ মেগা সিরিয়াল। প্রথমেই এক গ্রাম্য মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। শুধুই যদি গ্রাম্য মেয়ে মাঠে ঘাটে ছুটে বেড়াত তা হলে সমস্যা হত না। কিন্তু লবঙ্গ ভাল রান্না করত। তাই তাঁকে রাত আড়াইটের সময় মৌড়লা মাছ মাখার শট দিতে হয়েছে। আবার সিন্নি মাখার শটও দিতে হয়েছে। ইশা মাছ কাটাও তিনি শিখেছেন লবঙ্গের কাছ থেকেই। এরকম এক চরিত্র খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল ইশার কাছে। জীবনের প্রথম কাজটাই ছিল যা যা তিনি পারেন না সেগুলো করে দেখানোর। ফলে চ্যালেঞ্জিং তো হবেই।
অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি পরিচালক দেখে নাকি স্ক্রিপ্ট দেখে কাজ বাছেন। ইশার উত্তর -“স্ক্রিপ্ট।” উত্তরের সপক্ষে জ্বলন্ত উদাহরণ ‘সোয়েটার’। পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিকের ‘সোয়েটার’ প্রথম বাংলা ছবি। কিন্তু ছবির স্ক্রিপ্ট এতটাই ভাল ছিল যে ইশা মুখ ফেরাতে পারেননি।
এহেন ইশা ভূতে ভয় পান। আবার একা শুতেও ভালোবাসেন। ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’-এর শুটিঙে ভূতে ভয় পেয়েছিলেন তিনি। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে হয়েছিল শুটিং। একটা পেল্লাই ঘরে একা শুয়েছিলেন। হঠাত রাতে দেখছেন কেউ বাথরুমের দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিল। ইশা ডাকতে পারেননি কারোকে। নিরাপদ আশ্রয় নেন কম্বলের ভিতর।
ইশা কাজ বিশ্বাসী, পরিশ্রমে বিশ্বাসী। এমন একদিন আসতেই পারে যেদিন হয়ত ইশা এতটা ব্যস্ত থাকবেন না। সেদিন কী করবেন ইশা? না, এই মুহূর্তে সেরকম দিনের কথা ভাবতে নারাজ তিনি। যেদিন তাঁকে কেউ আর নায়িকার রোল দেবে না, শুধুই মা-জেঠিমার চরিত্র দেবে সেদিন ভাবলেও ভাবতে পারেন যে অভিনয়টা আর চালিয়ে যাবেন কিনা। স্পষ্টবাদী ইশা স্পষ্টভাষায় জানালেন সেই কথা।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত