Blog

‘খড়গপুর আই আই টি’র কোণে কোণে ইতিহাসের হাতছানি

318 Views0 Comment

কারিগরী শিক্ষার কথা মাথায় এলেই এক লহমায় মনে পড়ে যে নাম তা হল- ‘খড়গপুর আই আই টি’। ১৯৫১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে ২১০০ একর জমিতে স্থাপিত হয় ‘খড়গপুর আই আই টি’। ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে ভারতবর্ষ থেকে আই আই টি খড়গপুর ছিল বিশ্বের প্রথম ৫০০ টি অগ্রগন্য বিশ্ববিদ্যায়ের মধ্যে একটি।

এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অস্বীকার করার জায়গা নেই। এর গড়ে ওঠার পিছনে লুকিয়ে আছে মস্ত এক ইতিহাস। রক্তাক্ত ইতিহাস বললেও ভুল বলা হবে না। অনেক কান্না, অনেক অত্যাচারের করুণ কাহিনি রয়েছে ইতিহাসের পরতে পরতে৷ খুব মসৃণ পথে গড়ে ওঠেনি হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে খড়গপুর আই আই টি। আর সেই ইতিহাসই উঠে এসেছে জাস্ট স্টুডিওর পর্দায়৷
সালটা ১৯১৩। তৎকালীন গভর্নর এন্ড্রু ফ্রেজার মেদিনীপুরকে ভাগ করতে চান দুই ভাগে। এবং এই প্রস্তাব তিনি দেন ভাইসরয় লর্ড কার্জনকে। পরিকল্পনা নেওয়া হয় মেদিনীপুরকে দুটি জেলায় ভাগ করা হবে। একটি মেদিনীপুর অন্যটি হিজলি।

এরপর খড়গপুরের সোনামুখী জঙ্গলে কারিগরী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন বিরোধিতা এবং সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি সুখকর না থাকায় স্থগিত হয় নির্মাণকাজ। অবশেষে তা ১৯২১-এ পরিণত হয় হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পে। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা আলাদা বন্দিশালা গড়ে ওঠে সেখানে। বিপ্লবীদের বন্দি করে তাঁদের উপর অকথ্য অত্যাচার শুরু হয় সেখানে। অত্যাচারীরা ব্রিটিশ ছাড়া আর কারা’ই বা হবে? খবরের কাগজ বিপ্লবীদের হাতে পৌঁছত বটে, তবে রাজনৈতিক সব খবর কালো কালিতে ঢেকে দেওয়া হত, যাতে রাজনৈতিক খবর বিপ্লবীদের গোচরে না আসতে পারে। বন্দি থাকাকালীন সেখানে ঘটে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও। জলের অভাবে, অকথ্য অত্যাচারের কবলে প্রাণ হারান অনেকেই। এরপর একদিন তিনজন বিপ্লবীর আকষ্মিক পলায়নে ব্রিটিশ অত্যাচারের মাত্রা যায় বেড়ে। ব্রিটিশ পুলিশ ওই তিনজনকে খুঁজে না পেয়ে হয়ে ওঠে আরও ভয়ানক। বিপ্লবীদের উপর অকথ্য অত্যাচারে প্রাণ হারায় কয়েকজন। জখমদের ভর্তি করা হয় খড়গপুরের রেল হাসপাতালে। সেই সময় নেতাজি সেখানে পৌঁছন। দুজনের মৃতদেহকে তিনি নিজের সঙ্গে নিয়ে যান। বিপ্লবীদের উপর ওই অকথ্য অত্যাচারের ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে বিশ্বকবি লেখেন ‘প্রশ্ন’ কবিতাটি।
হিজলিতে একদিন আগমন ঘটে মহাত্মার। তাঁর উদ্যোগে বন্ধ হয় মহিলাদের বন্দিশালা।

ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস দুই ছাত্রের রোষের মুখে পড়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বন্ধ হয় হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প। সেখানে গড়ে ওঠে আমেরিকার বায়ুসেনা হেড কোয়ার্টার। এরপর অনেক লড়াই, অনেক ঘটনা পেরিয়ে ১৯৫১-তে গড়ে ওঠে ‘খড়গপুর আই আই টি’। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায় এবং শিক্ষামন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘খড়গপুর আই আই টি’। উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ।