Blog

কীর্তন আর বাউলের সুরে সমৃদ্ধ জয়দেব-কেন্দুলি মেলা

233 Views0 Comment

মকর সংক্রান্তির পুণ্যদিনে ‘জাস্ট নিউজ’-এর ক্যামেরা হাতে সৌম্য বারিক পৌঁছে গিয়েছিল বীরভূম জেলার ‘জয়দেব-কেন্দুলি মেলা’ প্রাঙ্গণে৷ আর আপনাদেরকে মেলাটি সম্বন্ধে বহু তথ্য হাজির করলেন সুমন মিত্র। এই দুই প্রতিনিধি আস্বাদ নিলেন প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন জয়দেব-কেন্দুলি মেলার। বাউলের গানে মন হল মাতাল। রাত আড়াইটেতেও মেলা প্রাঙ্গণে জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতি বছরই এমন চিত্র বহাল থাকে বলে জানিয়েছেন মেলায় আগত পুণ্যার্থী এবং বাউলগণ৷ ভোর সাড়ে ৪টে থেকে শুরু হয় স্নান। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে সেখানে।

বীরভূম জেলার বিখ্যাত মেলা এই ‘জয়দেব-কেন্দুলি’ মেলা। বীরভূম-বর্ধমান জেলার সীমান্ত বরাবর বয়ে চলা অজয় নদের তীরে ছোট্ট গ্রাম জয়দেব কেন্দুলি। কবি জয়দেবের জন্মস্থান এই জয়দেব কেন্দুলি। তাঁর স্মৃতিতেই এই মেলার আয়োজন। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির দিনে বসে এই মেলা। তবে ৪০০ বছর আগে ঠিক কোনদিন এই মেলার শুভ উদ্বোধন হয় তার সঠিক দিশা দিতে পারেননি কেউই। পুণ্যস্নান, বাউল গান আর কীর্তনের মিশেলে জমে ওঠে এই মেলা। কত দূর দুরান্ত থেকে এই মেলায় ছুটে আসেন মানুষ। উদ্দেশ্য একটাই, পুণ্য অর্জন।

‘গীতগোবিন্দ’র কবি জয়দেব ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি। লক্ষ্মণ সেনই এখানে তৈরি করেন রাধামাধব মন্দির৷ রয়েছে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা ২৫০ টি আশ্রম। কবি জয়দেবের নানা কীর্তি এই গ্রামে সংরক্ষিত থাকলেও ‘জয়দেব-কেন্দুলি’ মেলার দৌলতে এই জায়গা অধিক সমাদর পেয়েছে দেশবাসীর কাছে।
মকর সংক্রান্তির সময়ে অজয় নদে জল কম থাকে বলে এই সময় স্নান করা সুবিধাজনক হয়। এই সময়ে প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নিয়ে বালি তুলে জল জমানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি মহিলা ও পুরুষদের জন্য আলাদা আলাদা ঘাট বানানো হয়। পুণ্যার্থীদের বিনামূল্যে চা বিতরণ করা হয়। পুণ্যস্নানের পর যাতে ঠাণ্ডা না লাগে তার জন্য আগুন জ্বালিয়ে রাখা হয় একটি জায়গায়। সেখানে সকলে সেঁকে নেন নিজেকে। এটুকুতেই শেষ নয়, কীর্তন এবং বাউল গানের জন্য বানানো হয় পৃথক আখড়া। ইলেকট্রিক যখনও আসেনি জয়দেবের মেলায় তখন হ্যাজাক জ্বালিয়ে চলত গানবাজনা। তখন মাইকও ছিল না। তবে, তখন গানের থেকেও বেশি সাধনাকে জোর দেওয়া হত বলে জানিয়েছেন জনৈক সাধু। তিনি আরও জানান- “আজ জীবনচর্চার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া কমে গেছে এই মেলায়”।

বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলিতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বেছে নিন এই সময়টাই। সংস্কৃতিবাহী তথা ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি আর পাঁচটি মেলার থেকে একেবারে আলাদা।
বাউল আর কীর্তনাঙ্গের গান যাঁরা পছন্দ করেন তাঁরা এই মেলায় পাড়ি জমাতে পারেন অন্তত একবার। তবে হ্যাঁ, অন্তত একটা রাত কাটাতে হবে ওখানে। একতারা, দোতারা আর কীর্তনের সুরে ভাসতে হলে রাতটা জাগতে হবে যে।…

– নবনীতা দত্তগুপ্ত