Blog

লকডাউনে খাদ্য বিতরণের দুই চিত্র জাস্ট নিউজ-এ

184 Views0 Comment

করোনার প্রভাবে দোলা লেগেছে সর্বক্ষেত্রে। তবে, কিছু জরুরি পরিষেবা বন্ধ হয়নি। তার মধ্যে একটি হল হোম ডেলিভারি। দূরত্ব বজায় রেখে, নিজেকে সুরক্ষিত রেখে ডেলিভারি করছেন ডেলিভারি বয়’রা। এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাড়ির খাবারই ভরসা। তা সে সাদামাটা ভাত-ডাল-মাছের ঝোল হোক বা চটপটা লোভনীয় খাবার। ঘরের কেরামতিই বাজিমাত করছে আজ। তবে, ব্যতিক্রম নেই এ কথা ভুল। অনেকেই বাইরের খাবার খেতে বেশি পছন্দ করে। তাই অনলাইনে খাবার এনে খাচ্ছে অনেকেই। আবার অনেক অসুস্থ বয়স্ক নাগরিকও উপায়ান্তর না পেয়ে অনলাইনে বুক করছেন মধ্যাহ্ন ভোজ বা নৈশ ভোজের আহারাদি। অর্থাৎ কেউ শখে কেউ বা নিরুপায় হয়ে। তাই ডেলিভারি বয়দের ছুটি নেই। বাইকের চাকা ঘুরছে দুপুর ১২ টা থেকে রাত প্রায় ১১ টা অবধি।

এই সব ডেলিভারি বয়দের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে আলাপচারিতা জমায় জাস্ট নিউজ। ডেলিভারি বয়দের কথায়- “অর্ডার এখম আগের থেকে অনেক কম পাই। সময়ের ব্যবধানও থাকে অনেক। তাই দুপুর ১২ টা থেকে রাত প্রায় ১১ টা অবধি কাজ করতে হয়।”

জনা পঞ্চাশেক ডেলিভারি বয় ঘুরছেন রোজ নিজেদের রোজগারের তাগিদে। একইভাবে যাদের প্রয়োজন তাদের পাশে দাঁড়াতে। একজনের কথা অনুযায়ী- “বাড়ি থেকে বেরোতে বারণ করছেন বড়রা। তবুও বেরোচ্ছি। আমাদের মধ্যে অনেকেরই টাকাটার খুব দরকার। তাই বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না।”
এবার কথা হল, এঁরা নিজেদের কতটা সুরক্ষিত রাখছেন? কেননা এঁদের মধ্যে থেকেও কারো কারো শরীরে করোনার বীজ ধরা পড়েছে। ওঁদের কথায়, মাস্ক পরে বেরোচ্ছি, হাত বার বার স্যানিটাইজার দিয়ে ধুচ্ছি, কাস্টমারদের সঙ্গে বাক্যালাপ করছি না। দূরত্ব বজায় রাখছি।…

এর পাশাপাশি এক অন্য চিত্র ধরা পড়ল জাস্ট নিউজের ক্যামেরায়। সোনারপুরের এক তরুণ দল বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের বাড়ির লোকেদের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসাধীন আছে। তাদের খাবারের অভাব হবে না। কিন্তু যারা তাদের বাড়ির লোক তারা কোথায় খাবার পাবে? দোকান রেস্তোরাঁ তো বন্ধ। যারা ডাক্তার দেখাতে আসছে তাদের হাতেও তুলে দিচ্ছে খাবার। ২৫০ জনকে রোজ খাবার বিতরণ করছে এই তরুণ দল।
প্রসঙ্গত, ডেলিভারি বয়’রা খাবার বয়ে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছুটছে মানুষের মুখে তা তুলে দিতে। হয়ত বলবেন, এতে তো তার জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। একশভাগ খাঁটি কথা। কিন্তু সবাই তো অপারগ নয় এদের মধ্যে। কেউ এই পেশায় সংসার চালায় কেউ বা অনন্যোপায় না পেয়ে আজ এই কাজে লিপ্ত। তা সে যে কারণেই হোক, মৃত্যুভয় সবাই পায়। আর তা সংসার, খিদে সবকিছুর ঊর্ধে। সেই ভয়কে উপেক্ষা করে নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে যারা খাবার পৌঁছে দেয় তাদের মানসিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। একইভাবে যারা হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীদের বাড়ির লোকদের বিনি পয়সায় খাবার বিলি করছে তাদেরও কুর্নিশ।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত