Blog

প্রত্যেকটা দিনই আমাদের দিন

133 Views0 Comment

৩৬৫ টি দিনের মধ্যে কেবল একটি ৮ মার্চ আমাদের নয়। প্রত্যেকটা দিনই আমাদের। ৩৬৫-র একটা দিনও কি চলে আমাদের বাদ দিয়ে? আমরা কাজ করি ঘরে, কাজ করি অফিসে, কাজ করি কারখানায়, উড়ে বেড়াই আকাশে,

পাড়ি দিই মহাকাশে, ডুব দিই সমুদ্রের অতলে, গলায় স্টেথোস্কোপ, হাতে কলম-ক্যামেরা সবই আছে আমাদের। কেউ আবার শট দিই লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনে, কেউ বা গড়ি মায়ের মূর্তি। পুরস্কার পাই শারদ সম্মানে। তা হলে কেন মায়ের চোখ আঁকতে বাঁধা আমাদের? এই ‘কেন’র উত্তর নেই কারো কাছে। তবে, উত্তর পাওয়ারও কি খুব দরকার? না বোধহয়। কারণ এই উত্তরের অপেক্ষা না করে এমনকী নেতিবাচক উত্তর পেয়েও তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কুমোরটুলিতে রাজ করছেন কাঞ্চী পাল, মালা পাল, চায়না পাল। পৈতৃক ব্যবসাই আজ তাঁদের নিজের ব্যবসা। নিজেরা ঠাকুর তো গড়েনই, তাঁদের অধীনে রয়েছেন অনেক কারিগর। সব মিলিয়ে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন চায়না, কাঞ্চী এবং মালা পালেরা।

একদিকে যেমন মজার কথা তেমনি আবার ভাবতে অবাক লাগে এঁরা যখন কুমোরটুলিতে নিজেদের ক্যারিশ্মা দেখাতে যায় তখন বলা হয়- “মেয়েরা সব কাজ পারে নাকি? মূর্তি গড়া কি মেয়েদের কম্ম? মায়ের চোখও তো তারা আঁকতে পারবে না।”…
চারপাশের সব অজুহাত আর যুক্তিকে নস্যাৎ করে মালা, চায়না, কাঞ্চী এগিয়ে চলেছেন নিজের লক্ষ্যে। নারী দিবসকে কেন্দ্রে রেখে তাঁদের কাছে হাজির হয় জাস্ট নিউজ। জেনে নেয় তাঁদের কর্মকাণ্ডের রোজনামচা।

নিজে মূর্তি গড়ার পাশাপাশি অন্যদেরও তা শেখানোর ভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন মালা পাল। নিজের কাজের দক্ষতায় পাড়ি দিয়েছেন দিল্লিতে। কাজ করেছেন সেখানেও। পুরস্কার পেয়েছেন। এরপর নিজের শহরে ফিরে তরুণ তুর্কীদের শেখাচ্ছেন মূর্তি গড়ার কাজ।

কাঞ্চী পাল নিজের সংসার, সন্তান সামলে দিনরাত এক করে দেন নিজের স্টুডিওতে। শুধু তাই নয়, পাড়া প্রতিবেশী বিপদে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করতে তাঁর ভূমিকা থাকে সর্বাগ্রে। এহেন কাঞ্চী পালের তৈরি নানা ধাঁচের মূর্তি বহুবার পুরষ্কৃত হয়েছে।

বাবা মারা যাওয়ার পর চায়না পাল হাল ধরেন বাবার গড়া কুমোরটুলির। বাবার অধীনস্থ কর্মচারীরা সেদিন চাননি চায়না আসুক কুমোরটুলিতে। ভেবেছিলেন নিজেদের কুক্ষিগত করবেন সেই কুমোরটুলি। কিন্তু চায়না তা হতে দেননি। অনেক ঝড়-ঝাপটা সামলে, অনেক কটূকথার ঊর্ধে উঠে নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন। আজ তিনি সফল। আত্মীয় স্বজনরাও বাধ সেধেছিলেন সেদিন। চায়না হাল ছাড়ার নয়, শক্ত হাতে হাল ধরার পাত্রী। আজ সেই সব আত্মীয়রাই তাঁকে স্যালুট জানায়!
সুতরাং, মেয়েরা সব কাজ পারে না, তারা দুর্বল, তাদের কাজ কেবলই ঘরকন্নায় সীমাবদ্ধ— এই সব কথার দিন শেষ। নারী দশভুজা। দশ হাতে দশরকম কাজ করতে সে সিদ্ধহস্ত। তাই বছরের মাত্র একটি দিন নারী দিবসের জয়গান না গেয়ে গাইতে হবে প্রতিদিন। তবেই সঠিক মূল্যায়ণ কবে নারীকূলের– এমনটাই দাবি কাঞ্চী, চায়না আর মালাদের। সর্বোপরি, এই দাবি সমগ্র নারী জাতির।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত