Blog

প্যাডম্যানঃ দ্য রিয়েল হিরো

163 Views0 Comment

মাসের ওই কটা দিন আজও নারীকূল বলতে অভ্যস্ত “আমার শরীর খারাপ হয়েছে।”… কিন্তু ‘শরীর খারাপ’ কেন? কোনও একটা মাসে ঋতুস্রাব না হলেই তো মেয়েরা চিন্তায় পড়ে, ডাক্তারের কাছে ছোটে। তা হলে মেয়েদের আসল শরীর খারাপটা হয় কখন? যখন তারা পিরিয়ড মিস করে। এই সত্যিটা কে বোঝাবে কাকে?…

মেয়েরা আজও নিজের পিরিয়ড হলে অন্যের কাছে তা শেয়ার করতে লজ্জা পায়। পুজো বাড়িতে যাওয়ার কথা হলে খুব সুচারুভাবে এড়িয়ে যায়। ঘরের পুজোটিও ওই সময়ে তার দিতে মানা। সময় বদলেছে। বদলায়নি মানুষের চিন্তাভাবনা। অথচ ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায় মা সারদা ঋতুমতী অবস্থাতেই মা ভবতারিণীর পুজোর জোগাড় করতেন। এবং তাতে তাঁর স্বামী তথা ভবতারিণী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী রামকৃষ্ণের পূর্ণ সমর্থন ছিল। তবু আজও এই পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব নিয়ে আমাদের সমাজে হাজারো ট্যাবু বিদ্যমান। ট্যাবু ভাঙা সহজ কাজ নয়। মানুষের এত দিনকার বিশ্বাস, ধারণা, কুসংস্কার একদিনে পাল্টে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যেটা সম্ভব সেটা করছেন প্যাডম্যান শোভন মুখোপাধ্যায়৷ কলকাতা শহরের বিভিন্ন সুলভ শৌচালয়ে তিনি প্যাড ভেন্ডারের ব্যবস্থা করেছিলেন অনেক আগেই। কিন্তু তখন তাঁর কাছে সম্বল ছিল কাঠের বাক্স। বিভিন্ন সুলভ শৌচালয়ে কাঠের বাক্স বসিয়ে নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে তাতে প্যাড মজুত করতেন শোভন। কিন্তু ভাল কাজ তো হজম হয় না এক শ্রেণির মানুষের। তাই কিছু সংখ্যক মানুষ সেটিকে অশ্লীল উদ্যোগ বলে ভেঙে দেয়। তাতে কী? ফের এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন শোভন। পাশে পেয়েছেন বন্ধু রাহুল দাশগুপ্ত এবং অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তীকে।

শহর ও শহরতলীর অধিকাংশ সুলভ শৌচালয়ে থাকবে ‘ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন’। পরবর্তীতে তা আরও শাখা প্রশাখা মেলবে বলে আশাবাদী ঋতাভরী, শোভন এবং রাহুল।
শোভন মুখার্জি আজ পরিচিত ‘প্যাডম্যান’ হিসেবে। এহেন উদ্যোগ প্রথম তাঁরই। একজন পুরুষ হয়ে এমন এক উদ্যোগে শামিল হওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
সেদিন বাড়ির কেউ জানত না এম এস সি পাঠরত ছেলেটি গোপনে এহেন সমাজসেবামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কাছে হাজির হয় জাস্ট নিউজ। জেনে নেয় আর জানায় শোভনের জার্নি।

শোভনের বার্তা -“মাসের ওই কটা দিন নিজেকে পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করুন। অনেকেরই আর্থিক কারণে স্যানিটারি প্যাড কেনা সম্ভব হয় না। তাঁরা পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করুন৷ তবে তা একবার ব্যবহার করেই ফেলে দিন৷ দ্বিতীয়বার আর নয়।”
শোভন আরও জানান, আমি একা প্যাডম্যান হয়ে থাকতে চাই না। আমি চাই সমাজের প্রত্যেক পুরুষ ও নারী হয়ে উঠুক প্যাড ম্যান কিংবা প্যাড ওম্যান। উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে সকলকে।
প্রসঙ্গত, আমরা যারা নিজেদের সচেতন নারী বলে দাবি করি তারা ক’জন বলুন তো নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে প্যাড রেখে দিই? একশোজনের মধ্যে ৫০ হবে খুব বড়জোড়। এই সংখ্যা হতে হবে একশোতে ১০০। তবেই হবে জয়৷ তবেই আমরা আধুনিক, সচেতন বলে দাবি করতে সক্ষম হব নিজেদের।
তবে, প্যাডম্যান-কে এই সময়ে দাঁড়িয়ে স্যালুট জানাতেই হয়৷ আর বলতেই হয়- “প্যাডম্যানঃ দ্য রিয়েল হিরো”।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত