Blog

যোগ্যতাকে পুঁজি করে পি আর সেট করা উচিত

232 Views0 Comment

“উচ্চতা ৬ ফুট নয়, রং ফর্সা নয়। তাই বড় রোলে দেওয়া যাবে না। কারণ লোকে পছন্দ করবে না। লোকে দেখবে না।”– কেরিয়ারের শুরুতে এমন কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। সত্যি কথা এ ভাবেই নির্দ্বিধায় বলে দিতে অভ্যস্ত অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।…

দাপুটে অভিনেতা। পর্দায় তাঁর উপস্থিতিতে কেউ হাসিতে ফেটে পড়ে, কেউ বা রাগে। নায়ক বলতে ঠিক যা আমরা বুঝি যে কিনা নায়িকার সঙ্গে আবেগঘন দৃশ্যে নায়িকার অনেক কাছাকাছি চলে আসছেন তেমনটি তিনি নন। কিন্তু নায়ক তো বটেই। কারণ কিছু কিছু ছবির কোনও কোনও সিন দেখলে মনে হয়, এখানে রুদ্রনীল থাকলে ব্যাপারটা জম্পেশ হত। আর এখানেই রুদ্রর জয়। এখানেই কোনও অভিনেতার জয়। কারোকে তোষামোদ করে লিড চরিত্র হাঁকানোর প্রয়োজন পড়ে না রুদ্রনীল ঘোষের মতো অভিনেতাদের।

রুদ্রনীল মনে করেন, দর্শকই সবথেকে বড় বিচারক। দর্শক তাঁর আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাধারণ, ছাপোষা মানুষের জীবনপ্রণালী দেখতে চান, যা তাঁর খুব চেনা। তাই একজন অভিনেতাকে নিজের পছন্দ- অপছন্দ দূরে সরিয়ে যে চরিত্রটি তাঁর জন্য বরাদ্দ হয়েছে তাকে ভালোবাসতে হবে বলে মনে করেন অভিনেতা রুদ্রনীল। তা সে গৃহবধূ হোক, পরিচারিকা হোক, মজুর হোক, চোর হোক, ডাকাত কিংবা কোনও বিজনেস টাইকুন হোক। মানুষটির পেশাটিকে তাঁর সেই সময়টুকুতে দাঁড়িয়ে ভালোবাসতেই হবে। প্রত্যেকটা প্রফেশনের মধ্যে একটা ইমোশন লুকিয়ে থাকে। একজন চোর যখন কোনও বাচ্চার জিনিস চুরি করে সে বাড়ি ফিরে সেটা নিজের বাচ্চাটাকে দেয়। মানে? সেখানে চোরটির একটা ইমোশন কাজ করছে।

রুদ্রনীলের সঙ্গে অ্যাকশন কাট সেগমেন্টের কথোপকথনে তাঁর কিছু দামী কথা উঠে আসে। যেমন – হাজার হাজার নতুন মুখ আসছে কাজ করতে। তার মধ্যে থেকে থাকছে ৫ জন। বাকিদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই আসলে অভিনয়টা করতে আসে না। একটু নাম ডাক করতে আসে। পাঁচটা লোক চিনবে, দশটা লোক ডেকে সেলফি তুলবে এই স্বপ্ন সফল করতেই তারা আসে এই ইন্ডাস্ট্রিতে। এদের জন্য দর্শক নেই। এরা বেশিদিন থাকে না। আর যারা অভিনয়টা শিখতে আসে তাদের দর্শক এবং ইন্ডাস্ট্রি উভয়েই মনে রাখে।
অভিনেতার মতে, অভিনয় কারোকে শেখানো যায় না। অভিনয়টা ভিতর থেকে আসে। রুদ্র ফের ধারালো বাক্যে কারোকে ছোট করতে না চেয়ে বলেন- ” আমার অনেক বন্ধু বান্ধবরাই অভিনয় শেখানোর দোকান খুলে বসেছে। সেখানে ডিসিপ্লিন টা শিখতে পারা যায়। অভিনয় শেখা যায় না।”

আগামী দিনে যারা অভিনয়ে আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- ” রোজ এক ঘণ্টা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মন গড়া সংলাপ বলো। প্রবীণ শিল্পীদের অভিনয় দেখো৷ আর কিচ্ছুটি লাগবে না। অভিনয় হল ভিতরের ব্যাপার। কেউ কারোকে তা শেখাতে পারে না।”
পর্দার ওপারের মানুষেরা ভাবেন- আহা! অভিনেতাদের কী সুন্দর জীবন! আসলে কি তাই? আমরা গরমকালে সোয়েটার পরে কাজ করি, শীতকালে খালি গায়ে কাজ করি। অনেক পরিশ্রমের ফসল দর্শকের ভালোবাসা। অনেক ঘাম ঝরলে তবে দর্শকের মনে বসত গড়া যায়। বগল থেকে ঘাম ঝরা মানে তোমার কেরিয়ার সেট।”

রুদ্রনীলের আরও একটি কথা বেশ দাগ কাটে। “সোসাইটি ঠিক করে দিয়েছে ভাল জামাইকে কেমন দেখতে হবে। কিন্তু মেধাসম্পন্ন জামাইকে কেমন দেখতে হবে ঠিক করে দিতে ভুলে গেছে।” কেন বললেন তিনি এমন কথা? নিজের কানেই শুনুন সাক্ষাৎকার পর্বে। পাবেন আরও অনেক দামী কথা।

– নবনীতা দত্তগুপ্ত